১০টি কৌশল যা মেনে চললে বিসিএস প্রিলি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিশ্চিত (If you follow the TEN Tricks you must pass BCS Preli)

by Author

যারা বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারী ক্যাডার সার্ভিস করতে চান তাদের জন্য প্রথম, কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ  ধাপ হচ্ছে  প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সত্যিকারে ভাল প্রস্তুতি থাকলে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন নয়। প্রস্তুতি না থাকার কারণে অনেক মেধাবী  প্রার্থী প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন না। আপনার যদি জীবনের লক্ষ্য থাকে বিসিএস তাহলে চাই দীর্ঘমেয়াদী ও পরিকল্পনা মাফিক প্রস্তুতি। এই লেখায় আমি ১০টি কৌশলের কথা বলতে চাই , যা মেনে চললে  আপনার কাছে  প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সহজ হয়ে যাবে।  

 

 

সংক্ষিপ্ত পথে কোন ভাল কিছু অর্জন করা যায় না। এর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। আর পরিশ্রম না বুঝে করায় অনেকে ব্যর্থ হয়। আপনাকে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে স্মার্টভাবে। বিসিএসের মত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শুধু পরীক্ষার আগে পড়ে খুব ভাল করা যায় না। এর জন্য ৪ থেকে ৫ বছরের একটি পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই নিজেকে আস্তে আস্তে তৈরি করতে হবে। নিজের মধ্যে শক্তভাবে লক্ষ্য স্থির করতে হবে । বার বার লক্ষ্য পরিবর্তন করা যাবে না। এমনভাবে লক্ষ্য স্থির করতে হবে যে বিসিএসই একমাত্র ভরসা।

 

 

নিজেকে ভাল ভাবে প্রস্তুত করার জন্য তথ্যমূলক ও আত্ম উন্নয়নমূলক বই পুস্তক সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেতে ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত সকল বই আয়ত্বে আনতে পারেন। নিজেকে যুগোপযোগী (আপডেট) রাখতে প্রতিদিন একটি বাংলা ও একটি ইংরেজী সংবাদপত্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে হবে। এটা  নিজের কাছে একটি রুটিনে পরিণত করতে হবে। শুধু তথ্য জানলে চলবে না। নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে গড়ে তুলতে আত্ম উন্নয়নমূলক বই পড়তে হবে। ইন্টারনেটেও এসব অনেক ফ্রি তথ্য রয়েছে।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের   নিজস্ব বিষয়ের  পাশাপাশি প্রতিদিন ৫-৬ ঘন্টা করে  বিসিএসের পড়াশুনা করতে হবে। যা পড়ছেন তা গুছিয়ে রাখার জন্য নোট খাতা ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য বিষয় ভিত্তিক নোট তৈরি  করতে পারেন। যেমন- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য একটি , English Literature of Language এর জন্য একটি, বাংলাদেশ বিষয়ালীর জন্য একটি, আন্তর্জাতিক বিষয়ালীর জন্য একটি, ভূগোল, পরিবেশও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি । এভাবে   প্রতিটি বিষয়ে নোট রাখতে পারেন। এগুলো নিয়মিত হালনাগাদ বা আপডেট করতে হবে।

 

 

বিসিএস একটি তুখোড় প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষা। যে না বুঝে পড়ে সে বেশি দূর এগোতে পারবে না। বাংলা, ইংরেজী, ইতিহাস, ভূগোল, গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞানের উপর শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এই বিষয়গুলোর মৌলিক জিনিসগুলো আগে আয়ত্ব করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি গ্রামার গুলো আগে ভালভাবে আয়ত্ব করতে হবে। তারপর কবি ও লেখকদের নাম এবং ইংরেজি শব্দ ভান্ডারকে ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ করতে হবে।ইতিহাসের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানতে হবে।   

 

  

বিসিএস বিষয়ে সামগ্রিক খোঁজ-খবর রাখার জন্য এক বা দু’জন সমমনা বন্ধু তৈরি করতে পারেন। আপনারা একে অপরকে প্রস্তুতির বিষয়ে  সহযোগিতা করতে পারেন। একা থাকলে অনেক তথ্য থেকে বিচ্যুত ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন ভালবন্ধু আপনাকে সহযোগিতা করতে পারেন এবং আপডেটেড রাখতে পারেন।

 

 

কমপক্ষে ১০ বছরের পুরনো প্রশ্নগুলো সংগ্রহে রাখতে হবে। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে এগুলো সমাধান করার চেষ্টা করুন। যে বিষয়ে প্রস্তুতিতে ঘাটতি আছে তা বুঝতে পারবেন। নন-ক্যাড়ার ও অন্যান্য সরকারী চাকুরীর পুরনো প্রশ্নও সমাধান করা ভাল। সে ক্ষেত্রে নিজেকে আরো ঝালিয়ে নিতে পারবেন।

 

 

বিসিএসে হাজার হাজার তথ্য মাথায় রাখতে হয়। অনেক সময় এক সাথে জট পাকিয়ে যায়। অনেক সময় মনে থাকেনা বা তথ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এজন্য সংক্ষিপ্ত টেকনিক বা নেমোনিকস (দ্রুত শিখন বিদ্যা)  কাজে লাগাতে পারেন। অন্যের কাজ থেকে ধার করার চেয়ে নিজে গবেষণা করে নেমোনিকস বানিয়ে ফেলুন। এটা অবশ্য সময় সাপেক্ষ কিন্তু একবার বানানো হলে আর সহজে ভুলবেন না।

 

 

রিভিশনের  জন্য আপনাকে একটি রিভিশন সাইকেল তৈরি করতে হবে। চারটি রিভিশন সাইকেল তৈরি করে রিভিশন করলে পড়া সহজে মনে রাখতে পারবেন।

সাইকেল ১: কিছু জরুরী তথ্য আছে তিন দিন পর পর রিভিশন করতে হবে।

সাইকেল ২: কিছু তথ্য আছে এক সপ্তাহ পর পর রিভিশন করতে হবে।

সাইকেল ৩: কিছু তথ্য আছে এক মাস পর পর রিভিশন করতে হবে।

সাইকেল ৪: কিছু  তথ্য আছে তিন মাস পর পর রিভিশন করতে হবে।

 

 

একজন মেন্টর  আপনাকে অনেকভাবে সহায়তা করতে পারেন। তিনি আপনার পড়াশুনা ও ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে ভাল পরামর্শ দিতে পারেন। তাঁকে আদর্শ মেনে চলতে পারেন। তিনি আপনার শিক্ষক হতে পারেন বা কোন আত্মীয় হতে পারেন। মেন্টর  নির্বাচনে আপনাকে সময় দিতে হবে।এমন কাউকে  মেন্টর  নির্বাচন করুন, যিনি আপনাকে চিনেন এবং যাঁর বিসিএস সম্পর্কে ভাল ধারণা আছে।

 

আপনার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি হয়ে গেলে আগে বিষয় ভিত্তিক এবং পরে পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিতে পারেন। কোন কোচিং সেন্টারে গিয়ে বা বাসায় বসে অনলাইনে মডেল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেকে যাচাই করতে পারেন। অনলাইনে বিসিএস মডেল টেস্টের মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করার একটি প্ল্যাটফর্ম হল ইক্সাম হেল্প বিডি ডট কম (ExamHelpBd.com) । এখানে প্রিলিমিনারী পরীক্ষার অনেকগুলো বিষয়ভিত্তিক ও পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট রয়েছে। মডেল টেস্ট দেওয়ার পর নিজের ভুলগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে।দূর্বল বিষয় গুলো নিয়ে আবার উঠেপড়ে লাগতে হবে।

 

আলোচিত ১০টি কৌশলের মধ্যে যদি কিছু উপকারী উপাদান থাকে তাহলে আপনার বন্ধুদের শেয়ার করে তাদের সামান্যতম উপকার করুন।  লেখাটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

 

 

 

Frequently Asked questions FAQ

For Any Help Visit Help Menu